চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
গত ২৭ মে জামায়াতে ইসলামের নেতা এটিএম আজহারকে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীর দায় থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে মুক্তি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দেয়। সেই কর্মসূচীতে হামলা চালায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের কর্মীরা। এতে আহত হয় ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের অনুসারীরা তাদের উপর নির্মমভাবে হামলা চালায় হামলায় মারাত্মক জখম হয় একাধিক নারী সহ উপস্থিত অন্যান্যরাও।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে হামলা করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার প্রতিবাদে ও জামায়াতে ইসলামের নেতা এটিএম আজহারকে যুদ্ধাপরাধী থেকে বেকসুর খালাস করার প্রতিবাদে ২৯ মে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাথে উপস্থিত ছিল গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরাও।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক আহমেদ মুগ্ধ তার বক্তব্যে বলেন, ‘একজন চিহ্নিত রাজাকার নির্দোষ বা বেকসুর হতে পারে না। কিন্তু আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়ে প্রমাণ করলো রাজনৈতিক প্রভাবেই বিচারকার্য হয়েছে। আমরা বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে জামাত ও শিবিরের হামলা তাদের স্বৈরাচারী চরিত্রকে উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেন, শিবির ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে লুকিয়ে ছিলো। আজ তারা আবারো প্রমাণ করেছে ছাত্রলীগ আর শিবির আলাদা কিছু না, বরং একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার যে কায়দা জামাত শিবির দেখালো, তা ছাত্রলীগেরই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি।’
বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক মাহিদুল ইসলাম ইবাদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা অতীতে মোদিবিরোধী আন্দোলনে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে লীগের হামলার শিকার হয়েছিলাম। তখন শিবির ছাত্রলীগের ভিতরে থেকে আমাদের উপর হামলার অংশীদার ছিলো৷ ফলে ট্যাগ দিয়ে হামলার ন্যায্যতা আদায় করে মূলত শিবির ও জামাত তাদের আওয়ামী লীগ পূর্ববর্তী চরিত্রকেই ফিরিয়ে এনেছে।’
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘শিবির ও জামাত ২৪ এর আশায় পানি ঢেলে শহীদদের আত্মত্যাগকে কলঙ্কিত করেছে। রাজাকার আজহার একাত্তরের চিহ্নিত ও প্রমাণিত আসামী। তার দ্বারা ধর্ষিত বীরাঙ্গনা মনসুরা বেগম তার ফাঁসির রায়ে খুশি হয়েছিলো। তিনি আরও বলেন, জামাত ও শিবির মূলত তাদের সন্ত্রাসী চরিত্রকে উন্মোচন করেছে। সারাদেশের মানুষকে এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানাই।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব