রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের মধ্যে আবারও আন্দোলনের পথে যাচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা। একাধিকবার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও পে কমিশন এখনো নবম পে স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ দাখিল না করায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলো।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন সরকারি কর্মচারীরা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নতুন বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতীকী অনশন, সমাবেশ, মহাসমাবেশ এবং প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি। কর্মসূচির ধরন ও নির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবী বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব ও শৃঙ্খলার বিষয়টি মাথায় রেখেই সব কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তারা।
সংগঠনের এক নেতা বলেন, চাকরির বিধিমালা বহির্ভূত কোনো কর্মসূচিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইন ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই দাবি আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের বৈষম্য নিরসন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার পে কমিশন গঠন করে। ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রেখে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সরকারের সময়েই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিলেও নভেম্বর মাসে তিনি জানান, নতুন পে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার। ওই বক্তব্যের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি