সিনিয়র রিপোর্টার: সোমালিল্যান্ডকে বিশ্বে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিকে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। সোমালিয়া এবং কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান দেশ এই স্বীকৃতির তীব্র বিরোধিতা করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহামেদ আবদুল্লাহিকে অভিনন্দন জানিয়ে দেশটিকে স্বীকৃতি দেন। তিনি আবদুল্লাহির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাকে ইসরায়েলে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে ইসরায়েল শিগগিরই সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এবং সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে স্বীকৃতির ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
১৯৯১ সালে সোমালিয়া গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে সোমালিল্যান্ড কার্যত স্বায়ত্তশাসন ও স্থিতিশীলতা উপভোগ করছে। কিন্তু এত বছরেও কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। সোমালিয়া আন্তর্জাতিকভাবে এ স্বীকৃতির বিরোধিতা করে আসছে।
সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে ‘অবৈধ পদক্ষেপ’ ঘোষণা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বে একপ্রকার ইচ্ছাকৃত আক্রমণ। আন্তর্জাতিক বিধি অনুসারে সোমালিয়া প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেবে।
নেতানিয়াহু বলেন, তাদের ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি বলেন, তারা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে এবং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, পারস্পরিক সমৃদ্ধি বাড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা জুড়ে স্থিতিশীলতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও নিন্দা জানিয়েছে। মিসর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমালিয়া, তুরস্ক ও জিবুতির সঙ্গে ফোনালাপে এই সিদ্ধান্তের বিপজ্জনক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আফ্রিকান ইউনিয়নও স্বীকৃতি প্রদানের যেকোন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সোমালিয়ার ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সোমালিল্যান্ড আশা করছে, ইসরায়েলের এই স্বীকৃতি অন্যান্য দেশকেও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করবে, ফলে কূটনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি