রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অনেকে বছরের পর বছর সারাক্ষণ ক্লান্তি, সারা শরীরে ব্যথা, মাথা ভার ভার লাগা, ঘুম ঠিক না হওয়া এমন সমস্যায় ভোগেন। পরীক্ষায় কোনো বিশেষ সমস্যা ধরা না পড়ার কারণে অনেক সময় এগুলোকে ভুলভাবে ‘অলসতা’ বা ‘মানসিক সমস্যা’ হিসেবে ধরা হয়। তবে এর পেছনে কারণ হতে পারে দুটি রোগ- ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম ও ফাইব্রোমায়ালজিয়া।
কেন হয় এই রোগ
কোনো ভাইরাস সংক্রমণের পর দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভব।
শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
ঘুমের সমস্যা।
মানসিক চাপ।
মস্তিষ্কে ব্যথা অনুভব করার সিস্টেম অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া।
লক্ষণগুলো
ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোমে দেখা যায়-
বিশ্রামেও ক্লান্তি কমে না।
সামান্য কাজ করলেও তীব্র ক্লান্তি অনুভব।
মাথা ঘোরা ও মনোযোগ কমে যাওয়া।
ঘুমে ব্যাঘাত।
ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় দেখা যায়-
সারা শরীরে ব্যথা।
সকালে শরীরে জড়তা বা স্টিফনেস।
ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের নির্দিষ্ট টেন্ডার পয়েন্টে ব্যথা বেশি।
মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং আইবিএস-এর মতো উপসর্গ।
দুই অবস্থাতেই মস্তিষ্ক ব্যথাকে বেশি তীব্রভাবে অনুভব করে এবং ভয় বা দুশ্চিন্তা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসা ও ফিজিয়্যাট্রিক ব্যবস্থাপনা
ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ বাড়ানো।
নিয়মিত হাঁটা, স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম।
গরম পানিতে ব্যায়াম উপকারী।
এমিট্রিপটালিন, ডুলোক্সেটিন, প্রিগাবালিনের মতো ওষুধ।
হিট থেরাপি, স্ট্রেচ, ম্যানুয়াল থেরাপি।
শ্বাসপ্রশ্বাস ও রিল্যাক্সেশন ব্যায়াম।
প্রতিরোধে করণীয়
২০-৩০ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিশ্রাম।
ভারী কাজ সকালে করা।
পর্যাপ্ত পানি পান।
নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা।
স্ট্রেস কমানো।
ব্যথা বাড়লে পুরো বিশ্রাম না নিয়ে হালকা কাজ অব্যাহত রাখা।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা, জানিয়েছেন ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম ও ফাইব্রোমায়ালজিয়া চিকিৎসাযোগ্য। সঠিক শিক্ষা, ধীরে ধীরে ব্যায়াম, বিশ্রাম ও মানসিক স্বস্তি মেলালে রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা