রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন ছিলেন বিল গেটসের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলার ব্যক্তি এ কথা অকপটে স্বীকার করেছেন গেটস নিজেই। চলতি বছর প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘সোর্স কোড: মাই বিগিনিংস’-এ তিনি লিখেছেন, কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি কিশোর বয়সে বিভিন্ন সীমা অতিক্রমের অভিজ্ঞতাতেও পল অ্যালেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম গিকওয়্যারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস রসিকতার সুরে বলেন, পল অ্যালেনই তাকে প্রথম মদ্যপান করান, মারিজুয়ানা ও এলএসডি ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পরিচয় করান। সেই সঙ্গে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জিমি হেনড্রিক্সের গান শোনার অভ্যাসও গড়ে ওঠে তার মাধ্যমে। গেটস বলেন, “ও আমাকে মাতাল করেছে, মারিজুয়ানা দিয়েছে। লোকটা একেবারেই সমস্যা ছিল… আর আমাকে জিমি হেনড্রিক্সের গান শোনাত।”
আত্মজীবনীতে গেটস জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে তিনি চার থেকে পাঁচবার এলএসডি সেবন করেছিলেন। মদ্যপান ও মারিজুয়ানা ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল অচেতন হয়ে পড়া এবং মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তবে পরে উপলব্ধি করেন, এসব প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল আনেনি। গেটসের মতে, কৌতূহল ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তাকে এসব অভিজ্ঞতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, যদিও সেই সময় আত্মবিশ্বাসের অভাবও প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, একবার অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস তাকে মাইক্রোসফটের পণ্য আরও আকর্ষণীয় করতে হ্যালুসিনোজেন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে গেটস সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি।
কিশোর বয়সের এইসব অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও প্রযুক্তি জগতে তার লক্ষ্য অক্ষুণ্ণ থাকলো। ১৯৭৫ সালে পল অ্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে আসার সময় কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২১ ডলার। সেই সময়ে গেটসের হাতে ছিল কোম্পানির ৪৫ শতাংশ শেয়ার, যা তাকে অল্প সময়ের মধ্যেই কোটিপতিতে পরিণত করে।
বর্তমানে বিল গেটস জনকল্যাণমূলক কাজে মনোযোগ দিচ্ছেন। বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করছেন। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১,৮০০ কোটি ডলার, এবং ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে তিনি ১৮তম অবস্থানে রয়েছেন।
মাইক্রোসফটের বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা