সিনিয়র রিপোর্টার: ঢাকায় ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত গোলটেবিল সংলাপে সংখ্যালঘুদের উপর চলমান সহিংসতা ও বিচারহীনতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকারের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোলটেবিল সংলাপের সভাপতিত্ব করেন মি. নির্মল রোজারিও এবং সঞ্চালনা করেন রঞ্জন কর্মকার। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মনিন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সাংবাদিক আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
সংলাপে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হয়:সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন,জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন,অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন; সংখ্যালঘুদের প্রশাসন, পুলিশ, সংসদ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণ;সংখ্যালঘুদের জন্য সরাসরি ভোটে ৬০টি আসন সংরক্ষণ;পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে জনগণ শঙ্কিত, এবং ধর্মীয় পরিচিতির কারণে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের প্রয়োজন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদের পতন না হলে সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা উপেক্ষিত থাকবে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে দেশের মূলধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে হবে।
ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু নারীদের অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নীরবতার কারণে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সম্প্রদায় নির্যাতনের শিকার হলে তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
গোলটেবিল সংলাপের শেষে মি. নির্মল রোজারিও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং আলোচকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি