কলকাতা প্রতিনিধি : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যাওয়ার দাবি নাকচ করেছে মেঘালয় পুলিশ। একইসঙ্গে সেখানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কাউকে আটকের কথাও অস্বীকার করেছে তারা। এমনকি ভারতের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্সের ব্যুরোর (আইবি) কাছেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই বলে জানা গেছে।
এদিকে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে সিএনজি যোগে আমিন বাজার যায়। পরবর্তীতে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুর যায় এবং সেখান থেকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেট কারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক মূল দুই অভিযুক্ত অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে থাকতে পারে মর্মে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালক, প্রেমিকা ও পলায়নে সহায়তাকারী নুরুজ্জামান ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে । এছাড়া ফয়সাল ও আলমগীরকে পরিবহনকারী তিনজন গাড়ী চালক এবং শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির অটোচালক সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, তারা ইতোমধ্যে পুত্তি ও সামীকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা সন্দেহ করি আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
তবে মেঘালয় মনিটরকে রাজ্য পুলিশ মহাপরিদর্শক ইদাশিশা নংরাং বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) ওপি উপাধ্যায় বলেছেন, এই দাবি সত্য নয়। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বানোয়াট।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব