শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতার মনোনয়নপত্র জমাদানের সর্বশেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার।
মাগুরা সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি ও শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি কারাগারে আটক থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁর মনোনয়নপত্র সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি তাঁর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নিজ বাড়ি শ্রীপুরে ফেরার পথে মাগুরা জেলা পুলিশের হাতে আটক হন। আটকের পর থেকে তিনি এখনো মাগুরা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি কারাগারে আটক থাকলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের বিপরীতে মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সিরাজুল আকবরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছেন।
কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটির পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়া ’৭১-এর রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধকালীন শ্রীপুর বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন এবং দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটির ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ হোসেন মিয়া রাজনও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সূত্র ধরেই কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি বংশগতভাবেই এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটির ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ হোসেন মিয়া রাজন বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় তাঁর বড় ভাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরার পথে তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়ে মাগুরা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি কারাগারে বন্দি থাকায় তাঁর পক্ষে প্রতিনিধির মাধ্যমে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁর বড় ভাই অবশ্যই বিজয়ী হবেন। আর তাঁদের পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়া ’৭১-এর রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধকালীন শ্রীপুর বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। বড় ভাই কুটি ২০০৮ সাল পর্যন্ত যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তাঁদের পরিবারের ওপর বেশি নির্যাতন করা হয়েছে। যদি তাঁর বড় ভাই কুটি এবারের নির্বাচনে নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে তাঁরা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে অদূর ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন