আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : বিগত তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম ভারতের শীর্ষ স্থানীয় ধনকুবেরদের তালিকা ১৩.৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে বিলিয়নেয়ার প্রোমোটারের সংখ্যা ২০৪ জন থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১২ সালের পর সংখ্যা এবং মোট সম্পদের নিরিখে তীব্রতম পতন।
২০২৪ সালের শেষে বিলিয়নেয়ারদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ছিল ১,০৩৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫ শতাংশ কমে ৯৮৪.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ২০২২ সালে এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১৪২ থেকে কমে ১২৬ হয়েছিল।
মূলত মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ শেয়ারগুলোর ব্যাপক দরপতন বাজার মূলধন কমিয়ে দিয়েছে, পাশাপাশি টাকার মান কমে যাওয়ায় ডলারের হিসাবে সম্পদের পরিমাণ সংকুচিত হয়েছে। গত এক বছরে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে সেনসেক্স ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও মিডক্যাপ সূচক ছিল নামমাত্র ইতিবাচক এবং স্মলক্যাপ সূচক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার গড় মান ৮৪.৯৩ থেকে কমে ৯০.০৩ এ দাঁড়িয়েছে।আইপিও-র (IPO) জোয়ারের মধ্যেও বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা কমেছে, যদিও গত বছর ১২৮টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ায় ৯ জন নতুন বিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে। নতুনদের মধ্যে বিলিয়নব্রেনস গ্যারেজ ভেঞ্চারসের চারজন প্রতিষ্ঠাতা রয়েছেন যাদের সম্মিলিত সম্পদ ৩.১ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া ফিজিক্সওয়ালা, অ্যান্থেম বায়োসায়েন্স, মিশো এবং লেন্সকার্ট সলিউশনস থেকেও নতুন বিলিয়নেয়ার উঠে এসেছেন। শীর্ষস্থানে যথারীতি আধিপত্য বজায় রেখেছেন মুকেশ আম্বানি। ২০২৪ সালের তুলনায় তাঁর সম্পদ ১৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৩.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গৌতম আদানির সম্পদ ২.৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২.৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতী এয়ারটেলের সুনীল ভারতী মিত্তাল ষষ্ঠ স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, তাঁর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৩০.৬ বিলিয়ন ডলার।
এশিয়ান পেইন্টসের প্রবর্তক মালব দানি, অমৃতা ভাকিল এবং মনীশ চোকসিও সম্পদ বৃদ্ধি করে ১৩তম থেকে ১০ম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে, জেএসডব্লিউ গ্রুপের সজ্জন জিন্দালের সম্পদ ৩.৮ শতাংশ কমলেও তিনি সপ্তম থেকে ষষ্ঠ স্থানে উন্নীত হয়েছেন। তবে এইচসিএল টেকনোলজিসের শিব নাদার, উইপ্রোর আজিম প্রেমজি এবং সান ফার্মাসিউটিক্যালসের দিলীপ সাংভি শীর্ষ ১০-এ থাকলেও তাঁদের র্যাঙ্কিং পিছিয়েছে। নাদার তৃতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছেন এবং তাঁর সম্পদ ১৯.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সাংভির সম্পদ ১৪.৪ শতাংশ কমে ২৫.৩ বিলিয়ন এবং প্রেমজির সম্পদ ১৭.৫ শতাংশ কমে ২২.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অ্যাভিনিউ সুপারমার্টসের রাধাকিষাণ দামানি এবং বাজাজ গ্রুপের সঞ্জীব ও রাজীব বাজাজ যথাক্রমে অষ্টম ও নবম স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি