এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণী সিনেমার ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন নিয়মিত বলিউডের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। ২০০৯ সালে কর্নাটকের সিনেমা ‘গিল্লি’তে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় কর্মজীবন শুরু করেন এই অভিনেত্রী। এরপর একর পর এক তামিল, তেলুগু ভাষার সিনেমায় কাজ করতে থাকেন।
২০১৪ সালে হিন্দি ভাষায় ডাবিং করা ‘সালোনি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডের দর্শকদের সামনে আসলেও বি-টাউনের পর্দায় সরাসরি আসতে সময় লেগেছে ৪ বছর। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন আলোচিত এই অভিনেত্রী।
ভিন্ন ধারার গল্প ও চরিত্রকে বেছে বেছে কাজ করেন রাকুল। মাস কয়েক আগে শোনা গিয়েছিলো, ‘ছত্রিওয়ালি’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে কনডম টেস্টারের ভূমিকায় দেখা যাবে ৩১ বছর বয়সী এই নায়িকাকে। এ চরিত্র নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। সিনেমাটির প্রস্তুতিমূলক প্রোডাকশনের কাজও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্ত হঠাৎ করেই স্থগিত হয়ে গেল ‘ছত্রিওয়ালি’র কাজ।
জানা গেছে, ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ‘হেলমেট’ সিনেমার ব্যর্থতা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন প্রযোজক রনি স্ক্রুওয়ালা। তিনিই নির্মাণ করতে যাচ্ছিলেন ‘ছত্রিওয়ালি’। প্রযোজকের নড়েচড়ে বসার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কাকতালিয়ভাবে মিলে গেছে ‘ছত্রিওয়ালি’ ও ‘হেলমেট’ সিনেমার গল্প। পুরোপুরি না মিললেও ‘হেলমেট’র গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে গর্ভনিরোধক বিষয়টি।
তবে এর কারণ ব্যাখ্যা করে রনি স্ক্রুওয়ালার প্রযোজনা সংস্থা বলছে ভিন্ন কথা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কেন্দ্র সরকার অযৌক্তিক নজরদারি করছে। আর এই নজরদারির বিষয়েও সচেতন রাকুলের এ সিনেমার সংশ্লিষ্টরা। ছয় মাস আগে যেমন পরিস্থিতি ছিল তা রাজ কুন্দ্রার ঘটনার পর অনেকটাই বদলে গেছে। যৌনতা নিয়ে সিনেমা তৈরি করলে মুশকিল হতে পারে, এমন আশঙ্কার জেরে ‘ছত্রিওয়ালি’ নির্মান স্থগিত করা হয়েছে।’
গত বছরের শেষের দিকেই শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিলো রাকুলের ‘ছত্রিওয়ালি’ সিনেমার। এমন পরিস্থিতিতে তা আর হয়নি। এমনকি এ সিনেমার ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। তাহলে ধরে নেয়া যায় আপাতত আর কনডম টেস্টার হওয়া হচ্ছে না রাকুল প্রীত সিংয়ের। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, রাকুলের ‘কনডম টেস্টার’ হওয়ার প্রসঙ্গে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে ‘এটা আবার কি?’ জন্মনিরোধক হিসেবে কনডমের ব্যবহার প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই জানেন। কিন্তু টেস্টারের ব্যাপারটি অনেকের কাছেই অজানা। মূলত, বড় বড় কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। কনডম তৈরির পর তা তাদের দেওয়া হয়। এরপর এগুলোর কার্যক্ষমতা পরখ করেন সেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া কনডম টেস্টাররা। এরপর তারা তাদের অভিজ্ঞতার নিরিখে একটি করে প্রতিবেদন জমা দেন কোম্পানির কাছে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই বাজারে নতুন কনডম নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানগুলো।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব