আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বরখাস্ত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে নরকো-সন্ত্রাস, কোকেন আমদানি ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র রাখাসহ চারটি অভিযোগে ‘অপরাধী নয়’ দাবি করেছেন। তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও একইভাবে ‘নন গিল্টি’ ঘোষণা করেছেন। পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০০০ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদ সদস্য ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক বড় কোকেন-চক্র চালিয়েছেন। এই চক্রে মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেটাস কার্টেল, কলোম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া নামের গ্যাং জড়িত ছিল।
মাদুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যের আড়াল।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স কারাকাসে হেলিকপ্টার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার সরকার জরুরি আদেশ জারি করে, যারা অভিযানে সহায়তা করেছে তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়।
মাদুরো ও তার সরকার ১৩ বছর ধরে দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রবেশ করবে এবং অবকাঠামো পুনর্গঠন করবে। তিনি বলেন, আমরা যা চুরি করা হয়েছে তা ফের নিচ্ছি। আমরা নিয়ন্ত্রণে আছি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মিশ্র। রাশিয়া, চীন ও ভেনেজুয়েলার বামপন্থী মিত্র দেশগুলো অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, অভিযান বৈধ কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং এটি ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ভেনেজুয়েলার কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন, পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তি ও সংলাপ চাই, যুদ্ধ নয়।
মাদুরোর বিরুদ্ধে মামলা দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রোসিকিউটররা তাকে প্রথমবারের মতো অভিযোগে আনা হয়। নতুন অভিযোগে তার স্ত্রীসহ আরও কিছু লোককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মাদুরো ২০১৩ সালে হুগো চাভেসের উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের অবৈধতা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে অবৈধ স্বৈরশাসক হিসেবে বিবেচনা করে।
মাদুরোর আটক ও মামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে ভেনেজুয়েলার অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন, আর দেশটির সেনাবাহিনী তৎপরতা দেখাচ্ছে না। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি