রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক ১৩ জন সচিবসহ মোট ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। তদন্তের স্বার্থে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে এই নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন,সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব কামাল উদ্দীন আহমদ, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আসামিরা সপরিবারে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা ৪০ একর জমি পরবর্তীতে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসন নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১৭ এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা আইন পরিপন্থি। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ অনুযায়ী যেখানে কেবল অস্থায়ী ইজারার বিধান রয়েছে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি লিজের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।
এছাড়া ওই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এসব অনিয়ম করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম