স্টাফ রিপোর্টার: শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁরা এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের আদেশে তিনজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের ব্যবসার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত বুধবার (১ জানুয়ারি) রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস তিনজনের নাম উল্লেখ করে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গত শনিবার দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তাঁদের ডামুড্যা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গতকাল রাতে আসামি সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদারকে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে রাব্বি মোল্যা, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে সোহাগ খান এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে পলাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ঘটনার দিন রাতে তিন আসামি খোকন চন্দ্র দাসকে অনুসরণ করছিলেন। তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ির পথে রওনা হলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁরা কেউরভাঙা বাজার থেকে তিলই এলাকায় যান এবং খোকনের বাড়ি যাওয়ার পথে ওত পেতে থাকেন। পরে তাঁকে গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের চারটি স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। এরপর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, আসামিরা স্বীকার করেছেন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ঘটনার আগেই তাঁরা পেট্রল সংগ্রহ করে বোতলে ভরে সঙ্গে নিয়ে যান। তবে খোকনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে কোনো টাকা নিতে না পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি