যশোর প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছা থানার মাকাপুর গ্রামের প্রায় ৩০ জন নিরীহ ব্যক্তির নামে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান মারুফের বিরুদ্ধে। নারী, বৃদ্ধ ও শিশুসহ নিরীহ মানুষ যেন মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি পান—এ দাবিতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গ্রামবাসী।
মামলার এক ভুক্তভোগী স্নেহলতা পারভীন বলেন, “বর্তমানে যিনি মামলাটির তদন্ত করছেন, তার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক প্রতিবেদন দাখিল হবে বলে প্রত্যাশা করছি। এতে নিরীহ নারী-পুরুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, এসআই মেহেদী হাসান মারুফ, লাবলু হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও হোসেন পাটোয়ারী; ব্যারিস্টার এ কে এম মর্তুজা রাসেলের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি চৌগাছা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানতেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সে সময় ওসি নিরব ভূমিকা পালন করেন।
থানার বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি একজন সৎ ব্যক্তি হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন বলে জানান স্নেহলতা।
স্নেহলতা পারভীন বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই মূলত নির্যাতনের সূত্রপাত। প্রায় পাচ বছর ধরে ৪০ বিঘা জমি নিয়ে ব্যারিস্টার এ কে এম মর্তুজা রাসেলের সঙ্গে পরিবারের সকল সদস্যের বিরোধ চলমান রয়েছে। মর্তুজা রাসেল অর্থের বিনিময়ে অসৎ কিছু পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়েছেন। এদের মধ্যে এসআই সবুজ অন্যতম।
তিনি আরও বলেন, এসআই মেহেদী হাসান মারুফ ভুক্তভোগীদের প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছেন। এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে লাবলু হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও হোসেন পাটোয়ারী সক্রিয় ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জানিয়ে স্নেহলতা বলেন, মামলার হয়রানি থেকে মুক্তি এবং সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবেদন করেছি। কর্তৃপক্ষ আমার অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তাই তদন্ত প্রতিবেদন সুষ্ঠু হবে বলে আশা করছি।
স্নেহলতা বলেন, মাকাপুর গ্রামের হামজা, ছামসার, খালিদ হাসান, শফিকুল, রবিউল, নুর হক, ফিরোজ, দুখু মিয়া, নাহিদ হাসান, কাজেম, ইশাকুল, রাসেল ও লিটনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় তাদের জমি দখল এবং ফসল লুট করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হলেও সাবেক ওসি আনোয়ার হোসেন মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে নতুন ওসি যোগদানের পর হয়রানি বন্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে যে মামলাটি করা হয়েছিল সে বিষয়ে আমি অবগত। মাকাপুর গ্রামে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তে যদি নিরীহ মানুষের নাম যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে তাদের নাম বাদ পড়বে। বর্তমানে আমি ওই থানায় কর্মরত না থাকায় এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
অভিযুক্ত এসআই মারুফের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তে নিরীহ কারো নাম থাকলে তা বাদ যাবে। তবে অর্থের বিনিময়ে নিরীহ ব্যক্তিদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।