স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে এক নারীকে লাথি মেরে বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ জুন) দুপুর আড়াইটার সময় নগরীর লালদিঘীর পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে আকাশ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমি আমার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের সিদ্ধান্তক্রমে আজকেই চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় আত্মসমর্পণ করার ঘোষণা দিচ্ছি।
আকাশ চৌধুরীর আত্মসমর্পণের স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আবদুল করিম বলেন, সেটি তার নিজস্ব বিষয়। আমাদের বক্তব্য, আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি।
এদিকে, আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মে তারিখে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আকাশ চৌধুরী নামের একজন ব্যক্তি বাম ছাত্রজোটের এক নারীকে লাথি মেরে ঘটনাস্থলে নাজুক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিকে শনাক্ত করেন। এরপর ১ জুন তারিখে কোতোয়ালি থানার লালদিঘী মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
এর আগে শুক্রবার (৩০ মে) রাতে দলের চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীসহ দুজনকে পেছন থেকে লাথি মারতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। যে ব্যক্তিকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তাঁর নাম আকাশ চৌধুরী।
এ ঘটনার পর শনিবার (৩১ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে বুধবারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি একজন মুসলমান হিসেবে ঈমানী দায়িত্বের জায়গা থেকে শাহবাগী, বাম, ইসকন, ইসলামবিদ্বেষীদের প্রতিহত করতে তিনি সেদিন সেখানে গিয়েছেন বলে জানান।
দীর্ঘ স্ট্যাটাসের শেষের দিকে তিনি লেখেন, ব্যক্তিগতভাবে নারীর ওপর আঘাত করা আমার ভুল ছিল। আমি ওনার নিকট ক্ষমা চাই এবং এটা নিয়ে আমি লজ্জিত। কিন্তু ওই নারীর নীতি বা আদর্শ, যে কারণে ওনারা সেখানে সমবেত হয়েছিল তা আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘৃণা করি, তাদের এই নীতি আদর্শকে আমি ঘৃণা করি। আর তা প্রতিহত করা আমার ঈমানী দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। আর আমি আমার প্রাণের সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম এবং এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল, সংগঠনের কোনো ভুল ছিল না।
জানা যায়, গত বুধবার (২৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এলাকায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির প্রতিবাদ এবং রাজশাহীতে ছাত্রজোটের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ডাকা মানববন্ধনে হামলা চালায় শাহবাগবিরোধী ঐক্য। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদিন একজন নারীকে লাথি মারতে দেখা যায় আকাশ চৌধুরীকে।
আকাশ চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নেচার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ