রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টেকনাফের হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনান (১২)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে তাকে। অস্ত্রোপচার করা হলেও তার মাথার ভেতরে থাকা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই একই এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব ঘটনার জন্য দায়ী মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানান, মাথার ভেতরে থাকা গুলিটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে রয়েছে। বর্তমানে গুলি বের করার চেষ্টা করলে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। অস্ত্রোপচারে মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ করা হয়েছে এবং খুলির একটি অংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
হুজাইফার পরিবারের ভাষ্য, রোববার সকালে বাড়িতে পিঠা বানানো হচ্ছিল। নাস্তার পর পানি আনতে গেলে হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়। প্রথমে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের তিন কিলোমিটার ভেতরে গুলি চালানো হয়েছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী মাইন পুঁতে রেখে চলে গেছে। সীমান্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগের কিছু দ্বীপে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে আরাকান আর্মি, যা পূর্বেও বাংলাদেশি জেলেদের আহত করেছে।
হোয়াইক্যাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও প্রতিপক্ষের সংঘর্ষের কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি অংশ নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। সেখানে গোলাগুলি ও মাইন বিস্ফোরণ ঘটেছে।
মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হানিফকে রাত নয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ভাই ইমাম জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা হানিফের অবস্থাকে গুরুতর উল্লেখ করেছেন।
সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, এর আগেও অনেকে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। এবারও দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম