আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কিউবাকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালানো এক অভিযানে মার্কিন বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই ট্রাম্প কিউবার দিকে নজর দিচ্ছেন। ট্রাম্প কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করো”, না হলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় যাওয়া তেল ও অর্থের প্রবাহ এখন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জ্বালানি আমদানির অধিকার কিউবার রয়েছে।” আর কিউবার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কী করব, সেটা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।”
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “বহু বছর ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থ পেয়েছে। এর বদলে তারা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসকের জন্য ‘নিরাপত্তা সেবা’ দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা হবে না।”
তিনি আরও লেখেন, “কিউবায় আর এক ফোঁটা তেল বা এক ডলারও যাবে না—শূন্য! আমি জোর দিয়ে বলছি, দেরি হওয়ার আগেই তারা যেন চুক্তি করে।” তবে ট্রাম্প কী ধরনের চুক্তি চান বা কিউবা চুক্তি না করলে কী পরিণতি হবে—সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ বা হুমকির তোয়াক্কা না করেই যেকোনো দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পূর্ণ অধিকার কিউবার আছে।” তিনি আরও বলেন, কিউবা কখনোই অন্য দেশের ওপর “ব্ল্যাকমেইল বা সামরিক চাপ প্রয়োগ” করে না।
দীর্ঘদিন ধরে কিউবা মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিল। কিউবার সরকার জানিয়েছে, কারাকাসে মার্কিন অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, “গত সপ্তাহের মার্কিন হামলায় ওই কিউবানদের বেশিরভাগই মারা গেছে। এখন ভেনেজুয়েলার আর তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এখন ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি।”
রদ্রিগেজ অবশ্য দাবি করেন, কিউবা কখনোই কোনো দেশকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ বা সুবিধা নেয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন