আনিসুর রহমান: নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ হাওরে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে আতঙ্কে আছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশেষত মাঘান সিয়াদার ইউনিয়নের মল্লিকপুর মৌজার গলগলি ভিটা এলাকায় শত বছরের বেশি সময় ধরে গবাদিপশু চারণ ও শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহৃত এই জমি স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন দখল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী শেওড়াতলী গ্রামের শাহীন, কাওসার, লেবেল ও রয়েল প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গলগলি ভিটা কিনে বা লিজ নিয়ে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাধা দিলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি, মারধর এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন।
স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্তরা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে পরে আবার ফিরে আসছে। এর ফলে এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানান, আমরা তো এদেশের নাগরিক। আমরা হিন্দু বলে কি নিরাপদে থাকার অধিকার নেই? দিন দিন আমাদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। গোচারণভূমি ব্যবহার করতে গেলে ভয় পাচ্ছি।
অভিযুক্ত কাওসার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারি জমি দখল করি নি। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, কিছু অবাঞ্চিত লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। গলগলি ভিটা সরকারি গোচারণ ভূমি হিসেবে থাকবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসা মানুষরা নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারবে। কেউ অবৈধভাবে দখল করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মল্লিকপুর গ্রামে প্রায় চার শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। এখানে প্রতি বছর ৫ শতাধিক গৃহপালিত পশু লালন পালন করা হয়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এতদিনের একমাত্র সরকারি গোচারণভূমি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হোক, যাতে তাদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম