সিনিয়র রিপোর্টার: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ২০ জানুয়ারি হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।
বুধবার(১৪জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচ দল নিয়ে ইসলামি দলের জোট হতে পারে কি না জানতে চাইলে চরমোনাই পীরের দলটির মুখপাত্র বলেন, আমাদের সঙ্গে পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আলোচনা হচ্ছে। ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরে আরও আলোচনা হচ্ছে।
এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কথাবার্তা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবে ইসলামী আন্দোলন। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন তারা।
আসন নিয়ে মতৈক্য না হওয়ার কারণেই জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন ভেস্তে গেছে বলে দলটির সূত্র জানান। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন চাইছে, কিন্তু জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। এ নিয়ে ইসলামী দল দুটির সমঝোতা আটকে যায়।
জোটের আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেটি হয়নি।
‘ওয়ান বক্স’ পলিসির আওতায় আগামীর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এ আলোচনা নির্বাচনের পরও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন, খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের ওপরে দাঁড়িয়ে তাঁরা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে?
জামায়াতের জোটে বিভাজন বিএনপিকে সুবিধা করে দেবে কি না, এমন প্রশ্নে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক। এটার দায় কি আমাদের? এটা এখানে যদি কেউ অ্যাডভান্টেজ পায়, সেটা পাইতে পারে।’
নতুন করে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে, তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন, সেটা তো হয়ে গেছে।’
রিপোর্টার্স২৪/এসসি