রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, এসব অনিয়ম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশে প্রথম উদ্যোগ হওয়ায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে যেসব অভিযোগ সামনে আসছে তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম হয়েছে বলে ধারণা করছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বৈঠকে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনগত দিক ও আচরণবিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও একটি বাসা থেকে ২০০ থেকে ৩০০টি পোস্টাল ব্যালট উদ্ধার হয়েছে, কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য ব্যক্তি গ্রহণ করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কাছে কোন প্রক্রিয়ায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে, তারা কীভাবে ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে দ্রুতই ব্যাখ্যা দেবে।
আচরণবিধি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে দলীয় পরিচয় বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারেই এই বিধান সংশোধন সম্ভব বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব ফেলা নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনকে জটিল না করে ভোটারদের সহযোগিতা করাই হওয়া উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, অতীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে একটি প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসংবলিত সাধারণ ব্যালটই সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আলাদা আলাদা ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন এ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এ সময় বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম