শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের দিঘী দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ২২৫ জন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৪–৯৫ শিক্ষাবর্ষের বিবিএ ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এবং প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
জেলা সদর সংলগ্ন হলেও দিঘী ইউনিয়ন রাস্তাঘাট ও নাগরিক সুবিধায় অনেকটাই পিছিয়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন ‘বাতির নিচে অন্ধকার’। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দিনমজুরি ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী। দিঘী, দিঘী উত্তরপাড়া, দিঘী দক্ষিণপাড়া, ছুটি ভাটবাউর, ভাটবাউর, কয়ড়া, পিতলাই ও নতুন বসতি গ্রামের শীতার্ত মানুষদের জন্য এই কম্বল বিতরণ করা হয়।
এর আগে বুধবার এলাকাভিত্তিক যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে স্লিপ পৌঁছে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই স্লিপ হাতে একটি পরিত্যক্ত ফসলের মাঠে জড়ো হন শীতার্ত মানুষজন। লাঠিতে ভর দিয়ে আসেন কয়েকজন বৃদ্ধও। বেলা ১১টার দিকে নারী ও পুরুষকে আলাদা লাইনে দাঁড় করিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কম্বল বিতরণ করা হয়।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, এসবিএসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মাজহারুল হাসান, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আকবর হোসেন, প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন, গড়পাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক এবং সমাজসেবক আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্যরা।
কম্বল পেয়ে খুশি বিধবা রহিম বেগম (৬০) বলেন, “শীতে বাইরে যেতে পারি না। হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। বয়স হয়েছে, কাজও নাই। এই কম্বলটা খুব দরকার ছিল।”
অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারানো রূপচান মিয়া (৬৫) বলেন, “আমাগো মতো মানুষের কথা আপনারা ভাবছেন, এইটাই বড় কথা। আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।”
আরেক বিধবা নারী আলো রাজবংশী (৬৫) বলেন, “এই শীতে কেউ খোঁজ নেয় নাই। গা ঠান্ডায় কুঁকড়ে যায়। এই কম্বল পাইয়া মনে হইতেছে শীতটা কোনোভাবে পার করতে পারব।”
শীতের কনকনে সকালে এমন মানবিক উদ্যোগ দিঘী ইউনিয়নের অসহায় মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও উষ্ণতা ও ভরসা এনে দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন