ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা হাজারো বাংলাদেশির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার ফলে ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্রেন্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশিদের ওপরও। ফলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের ‘আমেরিকান ড্রিম’ বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে ইমিগ্রেন্ট ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হলেও নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা—যেমন ভিজিট, স্টুডেন্ট কিংবা কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব অর্থনীতি ও মানবসম্পদ রপ্তানিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৯ হাজার ২৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৫৮০ জন পেয়েছেন ইমিগ্রেন্ট ভিসা। এর আগের বছরগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পান ২০২২ সালে ১০ হাজার ২০০ জন, ২০২১ সালে ৬ হাজার ১৮০ জন এবং ২০২০ সালে ৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি আইনি পথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ পান।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক পারভেজ করিম আব্বাসি মনে করেন, এই পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সরকারের উচিত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করা। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, লক্ষণীয় বিষয় হলো ৭৫টি দেশের তালিকায় ভারত নেই এবং ভিসা বন্ড আরোপের ক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তান ছাড় পেয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের অবস্থান ও দুর্বলতা কোথায়, তা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এই সিদ্ধান্তে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ রাজু মহাজন। তাঁর মতে, ইমিগ্রেন্ট ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলে দূতাবাসের ওপর চাপ কমবে, যার ফলে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, ভিজিট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ইনভেস্টমেন্ট ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা—যেমন এফ-১, ও-১, এল-১, জে-১ এবং বি-১/বি-২—এই ক্যাটাগরিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম