স্পোর্টস ডেস্ক: শুরুটা ছিল চোখধাঁধানো, এমন শুরু যা দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন এবার বুঝি বিপিএলে প্রথম দুইশ রানের ইনিংস দেখা যাবে। মাত্র ১১.৩ ওভারেই রংপুর রাইডার্সের স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ১০০ রান। কিন্তু ইনিংস যত এগিয়েছে, রানের গতি ততই কমেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে রংপুরকে থামতে হয়েছে ১৮১ রানে।
মূলত হাফসেঞ্চুরি পার করার পর প্রত্যাশিত গতিতে রান বাড়াতে না পারাই রংপুরের বড় স্কোরের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়ের জোড়া ফিফটির পরও শেষ তিন ওভারে মাত্র ১৬ রান তুলতে পারে দলটি। এই সময়ে ঢাকা ক্যাপিটালস তুলে নেয় গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট।
চলতি বিপিএলে এখনো কোনো দল দুইশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি। সর্বোচ্চ ১৯৮ রান করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আরও কয়েকটি দল ১৯০ ছাড়ালেও দুইশ এখনো অধরাই। শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতায় বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৮০’র ঘরেই আটকে গেল রংপুর।
টস জিতে ঢাকা ক্যাপিটালস রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৫০ রান তুলে ভালো ভিত গড়ে তোলে রংপুর। পরের পাঁচ ওভারে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন দুই ওপেনার ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের ১২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় রংপুরের হাতে।
ডেভিড মালান খেলেন ৪৯ বলে ৭৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। তাসকিন আহমেদের ইনসুইং বলে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। অন্য প্রান্তে তাওহীদ হৃদয় করেন ৪৬ বলে ৬২ রান, যেখানে ছিল ৫ চার ও ৪ ছক্কা। তরুণ পেসার মারুফ মৃধার বলে আউট হয়ে বিপিএলে নিজের প্রথম উইকেট উপহার দেন হৃদয়।
এরপর কাইল মায়ার্স ১৬ বলে ২৪ রান করলেও ইনিংসের শেষভাগে ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি রংপুর। সাইফউদ্দিনের করা শেষ ওভারে টানা দুই বলে মায়ার্স ও লিটন দাস আউট হলে বড় সংগ্রহের সব আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের পক্ষে সাইফউদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার তিনি নেন ২টি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ছিলেন কৃপণ ও কার্যকর, নেন ১টি উইকেট। এ ছাড়া তরুণ মারুফ মৃধাও ১টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
এই ম্যাচে পরাজিত হলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে ঢাকা ক্যাপিটালসের। অন্যদিকে, জয় পেলে প্লে-অফ নিশ্চিত করবে রংপুর রাইডার্স। ফলে লক্ষ্য তাড়া করতে নামার আগে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম