রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের বাস্তব ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকারী একজন রাষ্ট্রনায়ক এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে খালেদা জিয়ার চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যেত।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ড. মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা, উদারতা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে বলতে গেলে দিনের পর দিন সময় লেগে যাবে। তিনি শুধু ক্ষমতায় ছিলেন না, বরং ক্ষমতাকে কীভাবে সংযত ও গণতান্ত্রিকভাবে ব্যবহার করতে হয়—তা দেখিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, অনেক সময় তার কথা স্মরণ করতে গিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তার শূন্যতা অনুভব করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আজ এই শোকসভায় দাঁড়িয়ে কীভাবে অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন খুঁজে পাই না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে এক নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। সেই সংকটময় সময়ে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক হয়ে ওঠেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত তখন বিতর্কিত হলেও সময়ই প্রমাণ করেছে সে সিদ্ধান্ত ছিল দূরদর্শী ও সঠিক।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছিল, সেটি ছিল খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থার প্রকাশ। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে।
নিজের মন্ত্রিত্বকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, কিন্তু কখনোই বেগম খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট কাজ চাপিয়ে দেননি। বরং পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তার মতে, এটাই ছিল গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একবার একজন সিনিয়র সচিব নিয়োগের আগে খালেদা জিয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর মতামত জানতে চেয়েছিলেন। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এই ধরনের সম্মান ও সহনশীলতা তার নেতৃত্বের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মামলা দেওয়া হয়েছিল, যার অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একবার তিনি খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন। এত মামলা থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি নিয়মিত আদালতে যান। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম