রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রতট, পাহাড়ি উপত্যকা, রঙিন গ্রাম কিংবা প্রাচীন নগরী—বিভিন্ন উপাদানে একটি দেশ হয়ে ওঠে ছবির মতো সুন্দর। এসব সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখার টানে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যান দূর–দূরান্তে। অনেক সময় এমন দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়, যা দেখে মনে হয়—এ কি সত্যি! তখনই ভ্রমণের সার্থকতা পূর্ণতা পায়।
ভ্রমণ শেষে ফিরে এলেও বহুদিন মনে থেকে যায় সেই দেশের রেশ। আবারও সেখানে ফিরতে মন চায়। পর্যটকদের চোখে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রাভেলবিঞ্জার ডটকম। সেই তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য ছয়টি দেশ।
নিউজিল্যান্ড
সুপরিচিত ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ‘রাফ গাইডস’-এর ২০২৪ সালের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও মানুষের সৌহার্দ্য—সব মিলিয়ে পর্যটকদের মন জয় করেছে দেশটি। তুষারে ঢাকা দুর্গম পাহাড়শৃঙ্গ, সোনালি সৈকত ও বিস্তীর্ণ উপত্যকা নিউজিল্যান্ডকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে রয়েছে হিমবাহঘেরা উপসাগর ও আলপাইন হ্রদ। নর্থ আইল্যান্ডে দেখা মেলে গ্লো-ওয়ার্ম কেভস, আগ্নেয়গিরি পার্ক এবং মাওরি সংস্কৃতির ঐতিহ্য। এসব কারণেই পরিচালক পিটার জ্যাকসন তাঁর ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে বেছে নিয়েছিলেন।
গ্রিস
বিশ্বের সুন্দর দেশগুলোর তালিকায় গ্রিসের নাম বরাবরই শোনা যায়। দুর্গম পাহাড়, শান্ত হ্রদ ও আঁকাবাঁকা নদীপ্রবাহ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর কারণে দেশটিতে খুব বেশি বৃষ্টি হয় না, গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গ্রিসের সৈকতগুলোয় সাদা, কালো, গোলাপি ও লাল রঙের বালুর বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। নীল জলঘেরা পাথুরে উপকূল, পাহাড় আর স্যান্টোরিনি দ্বীপের সাদা-নীল বাড়ির ওপর পড়া সূর্যের সোনালি আলো সত্যিই মনোমুগ্ধকর। প্রাচীন মন্দির, এথেন্সের ধ্বংসাবশেষ ও আইকনিক নীল গম্বুজ দেখতে প্রতিবছর লাখো পর্যটক ভিড় করেন গ্রিসে।
ইতালি
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষিত স্থানের সংখ্যায় বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে ইতালি। ইউরোপের এই দেশটির প্রতিটি শহরই যেন ইতিহাস, শিল্প আর সৌন্দর্যের একেকটি আলাদা অধ্যায়।
রোমের কোলোসিয়াম, পিসার হেলানো টাওয়ার, ফ্লোরেন্সের ক্যাথেড্রাল কিংবা ভেনিসের রঙিন গন্ডোলাভরা খাল—সব মিলিয়ে ইতালি ভ্রমণ মানেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও দেশটি কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।
জাপান
এশিয়ার দেশ জাপান প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন। শিজুওকা থেকে দেখা ফুজি পর্বতমালা, বসন্তের সাকুরা উৎসব কিংবা শরতের কায়ো মৌসুম—সবই আলাদা সৌন্দর্যের বার্তা দেয়।
বসন্তে চেরি ফুলে ভরে যায় সারি সারি গাছ, আর শরতে উদ্যানগুলো লালচে–সোনালি রঙে রূপ নেয়। নারার হরিণ পার্ক, জাপানি আল্পসসহ নানা প্রাকৃতিক আকর্ষণের কারণে সুন্দর দেশের যেকোনো তালিকায় জাপানের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত।
সুইজারল্যান্ড
আয়নার মতো স্বচ্ছ হ্রদ, তার ধারে ছোট ছোট গ্রাম—সুইজারল্যান্ড যেন ক্যালেন্ডারের পাতায় আঁকা এক নিখুঁত দৃশ্য। দেশটিতে রয়েছে ইউনেসকো ঘোষিত ১৩টি ঐতিহ্যবাহী স্থান।
আল্পস পর্বতমালার অংশবিশেষ এই দেশে স্কি ও হাইকিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। পাহাড়, হ্রদ আর সুশৃঙ্খল গ্রাম সুইজারল্যান্ডকে করেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্য।
নরওয়ে
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেক বিস্ময় নরওয়ে। বিখ্যাত সমুদ্র খাঁড়ি, উঁচু পাহাড় আর ঝরনাগুলো সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে দেশটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নর্দার্ন লাইট বা উত্তরী আলো।
শীতের রাতের আকাশে প্রাকৃতিক আলোর এই নৃত্য দেখতে দর্শনার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান। রাজধানী অসলো বন ও পানি দিয়ে ঘেরা হওয়ায় শহর থেকে খুব দূরে না গিয়েই হাইকিং, স্কি কিংবা কায়াকিং করা যায়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত গাইরানগারফিয়র্ডে রয়েছে ঘন বন, উঁচু পাহাড়চূড়া আর প্রায় ৮০০ ফুট উচ্চতার ঝরনা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি