রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে প্রথমে প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২–এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি গ্রহণ করা হবে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের এ পর্যায়ে প্রথমে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য রাখবেন। তবে মামলার সাতজন আসামির কেউই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। তারা পলাতক থাকায় আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে সরকারি খরচে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এ সংক্রান্ত আদেশ দেন।
ওই দিনই সাত আসামির আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও তারা কেউ আদালতে হাজির হননি। এর আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারেনি। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়। একই দিন সকালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নির্দেশ প্রদান, প্ররোচনা ও উসকানির মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম