আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি: গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়ে ডেনমার্কের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে জার্মান শিল্পখাত। রোববার জার্মানির শীর্ষ শিল্পসংগঠনগুলো এ ধরনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ওয়াশিংটনের চাপে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়ানো হবে। এমন ঘোষণার মধ্যেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আসন্ন ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যা নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জার্মান প্রকৌশল শিল্পসংস্থা ভিডিএমএ (VDMA)-এর সভাপতি বেয়ারট্রাম কাওলাথ বলেন, ইইউ যদি এই পর্যায়ে নতি স্বীকার করে, তাহলে তা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পরবর্তী ‘অবাস্তব’ দাবি তুলতে এবং আরও শুল্কের হুমকি দিতে উৎসাহিত করবে।
জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিআইএইচকে) বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ভলকার ট্রেয়ার বলেন, অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দেয়া হচ্ছে—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইইউ তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ ব্যবহারের পথ বিবেচনা করতে পারে। এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো তৃতীয় দেশ যদি ইইউ সদস্যদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শনিবারের এই শুল্ক-হুমকি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের যে সাময়িক সমঝোতা হয়েছিল, তা ভেস্তে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভিডিএমএ ও ডিআইএইচকে। উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত শুল্কের লক্ষ্যবস্তু তালিকায় যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
ভিডিএমএ সভাপতি কাওলাথ আরও বলেন, ওয়াশিংটন যখন নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্কের চাপ দিচ্ছে, তখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পক্ষে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে জার্মানির কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি (IfW)-এর সভাপতি মরিট্স শুলারিক মনে করেন, এসব শুল্কের অর্থনৈতিক প্রভাব জার্মানির জন্য সহনীয় থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইইউ যেন ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার না করে, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এর মোকাবিলা করে।