কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে দুধসরা সড়কে অগ্নিকাণ্ডে দুই ব্যবসায়ীর দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত পাশাপাশি দুটি দোকান ছিল—একটি চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান এবং অন্যটি ফুসকা-চটপটির দোকান। রাতে দোকান দুটি বন্ধ থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দোকানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ততক্ষণে দোকান দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত চটের বস্তা ও পুরোনো কাগজের ব্যবসায়ী তৌহিদ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি জানান, ২০২১ সালে একইভাবে আগুন দিয়ে তার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। তৌহিদের দাবি, ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল এবং ঘটনাটি ঘটে একদিন আগে তাকে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। তৌহিদ জানান, তার ক্ষতি প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো।
ফুসকা দোকানদার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত চার বছরে এ জায়গায় দুইবার আগুন লেগেছে। আগুন লাগার কারণ তিনি জানেন না। আগেরবার সবকিছু পুড়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেছিলেন, কিন্তু এবার আগুনে তার দোকানও পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, এবার আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ আবুল হাসেম বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তার প্রাথমিক ধারণা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি