আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার পর হুগলিতেও জনসভায় অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতি করছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিজেপির এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে তারা আন্দোলনে নামে, ভুয়া নথি তৈরি করে তাদের ভারতীয় বানানো হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং যারা বেআইনিভাবে ঢুকেছে, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি। তাঁর ভাষায়, অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ রক্ষায় তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে।
এরপর মোদি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের শত্রু বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের আমার সঙ্গে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু তারা বাংলার তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং মা-বোনদের সঙ্গে শত্রুতা করছে।
মৎস্যজীবীদের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে রাজ্যগুলোকে মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তার চিঠি পড়েন না এবং কর্মকর্তাদেরও কাজ করতে দেন না। তৃণমূল বাংলার মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে, বলেন মোদি।
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা দিয়ে তিনি দাবি করেন, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে উন্নয়নের গতি স্পষ্ট। ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে মোদি বলেন, আগে যেখানে ১০০টি পরিবারের মধ্যে মাত্র চারটি নলের জল পেত, বিজেপি সরকারের আমলে সেখানে ৮৫টির বেশি পরিবার পানীয় জলের সুবিধা পাচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও চাকরি চুরি বন্ধ হবে।
এ সময় ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রোডাক্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার প্রতিটি জেলার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেন মোদি। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং পাট শিল্পকে নতুন গতি দেওয়ার কথাও জানান।
বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় ও স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী জাতীয় স্তরে পালন করছে বিজেপি সরকার। দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বাংলা ভাষা ক্লাসিক্যাল ভাষার মর্যাদা পেয়েছে বিজেপি সরকারের আমলেই বলে দাবি করেন তিনি।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিরক্ষায় ইন্ডিয়া গেটে তার মূর্তি স্থাপন, আন্দামান-নিকোবরে দ্বীপের নামকরণ ও জাতীয় কর্মসূচির উল্লেখ করে মোদি বলেন, বাংলার মাটি দেশের স্বাধীনতার জন্য দিশা দেখিয়েছে। বিজেপি সেই প্রেরণা সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আয়ুষ্মান ভারত ও শিক্ষা প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, যে সরকার গরিবদের চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ আটকে দেয়, দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করে না। দেশের ভোটাররা এখন জেগে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি