সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন—এটাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে তিনি হ্যাঁ–না ভোট ও হ্যাঁ ভোটের বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ ভোট হোক বা না ভোট—প্রতিটি ভোটই সমানভাবে মূল্যবান। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে, যাতে নির্বাচন কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় এবং করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন