রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: মুখের দুর্গন্ধ বা ব্যাড ব্রেথ একটি সাধারণ কিন্তু বিব্রতকর সমস্যা। দৈনন্দিন জীবনে এটি আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত ওষুধ বা কেমিক্যালযুক্ত মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার না করেও ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নিচে মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কয়েকটি সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক উপায় তুলে ধরা হলো—
১. নিয়মিত কুলি করা
প্রতিদিন অন্তত দুইবার কুসুম গরম পানি বা লবণপানি দিয়ে কুলি করলে মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। চাইলে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মুখ পরিষ্কার থাকে এবং শ্বাসে সতেজতা আসে। নিয়মিত অভ্যাস করলে দীর্ঘমেয়াদে উপকার পাওয়া যায়।
২. জিহ্বা পরিষ্কার করা
শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই যথেষ্ট নয়। জিহ্বার ওপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই দাঁত ব্রাশ করার পর প্রতিদিন জিহ্বা পরিষ্কারক বা টাং স্ক্র্যাপার দিয়ে জিহ্বা পরিষ্কার করা জরুরি। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু দূর হয়।
৩. মৌরি বা মৌরির দানা ও মৌরির মতো সুগন্ধি বীজ
দীর্ঘদিন ধরে মৌরি ও আনিসিড (মিষ্টি জিরা) মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খাবারের পর, বিশেষ করে রাতের খাবারের পর ভাজা মৌরি চিবোলে শ্বাসে সতেজতা আসে। এতে থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধি তেল মুখের বাজে গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। এগুলো কাঁচা, ভাজা কিংবা চিনির প্রলেপ দেওয়া অবস্থায় খাওয়া যায়।
৪. লবঙ্গ চিবানো
লবঙ্গের রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও সুগন্ধি গুণ। দিনে কয়েকবার একটি বা দুটি লবঙ্গ চিবোলে মুখের দুর্গন্ধ কমে এবং মুখের ভেতর সতেজ অনুভূতি তৈরি হয়। দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্যও এটি উপকারী।
৫. চুইংগাম চিবানো
চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবোলে মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ে, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তাৎক্ষণিকভাবে মুখের বাজে গন্ধ কমাতে এটি কার্যকর।
৬. অয়েল পুলিং করা
অয়েল পুলিং একটি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি। এতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১০–২০ মিনিট মুখের ভেতর নারকেল তেল বা তিলের তেল কুলির মতো ঘোরানো হয়। এটি মুখের জীবাণু দূর করতে সহায়তা করে এবং দাঁতের ক্ষয় ও দুর্গন্ধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান করা
মুখ শুকিয়ে গেলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। পানি মুখ আর্দ্র রাখে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়।
৮. লেবু ও অন্যান্য সাইট্রাস ফল খাওয়া
কমলা, লেবু, মাল্টার মতো সাইট্রাস ফল লালা উৎপাদন বাড়ায় এবং মুখ পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। এগুলো দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মুখের পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি