ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাজার হাজার শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকারকর্মী ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও আগ্রাসী অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন।
এই গণবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পায় মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনার পর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা ও ওহিও পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস শহর। গত ৭ জানুয়ারি সেখানে একটি অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে গুলি করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন।
ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে শহরে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সমাবেশে অংশ নেন। তারা ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জনমতের তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প প্রশাসন অমানবিক উপায়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার যে দাবি করছে, তা মার্কিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এই আন্দোলনের পেছনে সক্রিয় ছিল ইনডিভিজিবল ও ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলনকারী গোষ্ঠী। তারা বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোর মতো এলাকায় স্থাপিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর অমানবিক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ওইসব ডিটেনশন ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক আইসসহ ফেডারেল সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় আকারের সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের মাধ্যমে তারা কেবল ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। তবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম