রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার শেষে বিকেলেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে, যেখানে দেখা করার সময় নির্ধারণ হয়েছে বিকেল ৫টায়।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে প্রতিবেদন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
এক কর্মকর্তা জানান, নবম পে-স্কেলের সব বিষয়ে মোটামুটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনার পর প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিটি কোনো সদস্যের কাছে কপি রাখবে না। পরে প্রয়োজনমতো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরও কিছু কপি প্রিন্ট করা হতে পারে।
সূত্র বলছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। পুরো মাত্রায় এটি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, ১ জুলাই থেকে।
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন ৭৮,০০০ টাকা, যা বাড়িয়ে ১,২০,০০০ টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত রাখা হবে ১:৮।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে স্কেলের জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে পুরো মাত্রায় বাস্তবায়নের জন্য আরও ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিচের ধাপের বেতন-ভাতা বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন হবে না বলেও সতর্ক করেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারি চাকরিজীবীরা এই প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় সন্তুষ্ট হবেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাবেক অর্থসচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ২১ সদস্যের কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম