আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার(২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নেতানিয়াহুর এই অংশগ্রহণ নিয়ে বোর্ডটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ড গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মধ্যেই গঠিত হচ্ছে।
কী এই ‘বোর্ড অব পিস’
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটি উন্মোচন করা হয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ড গাজার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ ও পুঁজি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের এই বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বোর্ডটির নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বোর্ডটির গঠন ও কার্যক্রম পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এর আগে বোর্ডের নির্বাহী কমিটিতে তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আপত্তি জানিয়েছিল এবং বলেছিল, এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি।
আইসিসি-অভিযুক্ত আরও নেতাও আমন্ত্রিত
নেতানিয়াহু একমাত্র নেতা নন, যাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধেও আইসিসির অভিযোগ রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা আমন্ত্রণের ‘সব দিক’ যাচাই করছে।
এ ছাড়া বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই বোর্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসরায়েলের একক দায়িত্ব থাকা উচিত।
বোর্ডের সদস্য ও কাঠামো
এই বোর্ডে সদস্য হিসেবে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা আমন্ত্রণ পেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
নির্বাহী বোর্ডে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা এবং ট্রাম্পের ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ও গঠন করা হয়েছে।
জাতিসংঘের বিকল্প?
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’-এর সনদে স্বাক্ষর করতে পারেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বোর্ডের কার্যক্রম শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক সংকটেও বিস্তৃত করতে চান।
এতে করে বোর্ডটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এমন জল্পনাও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘ থাকা উচিত, তবে সংস্থাটি নিজের সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বোর্ড অব পিস হতে পারে জাতিসংঘের বিকল্প।
এর প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক শৃঙ্খলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড অব পিসে স্থায়ী সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে এক বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হতে পারে। আজারবাইজান ইতোমধ্যে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তবে সুইডেন জানিয়েছে, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী তারা এতে অংশ নেবে না। আল-জাজিরা
রিপোটার্স ২৪/এসসি