দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।
বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তার দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বহাল থাকল এবং আপাতত নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন বিএনপির এই প্রার্থী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অবৈধ ঘোষণা করে। কমিশনের মতে, প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের সময় তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি, যা নির্বাচন আইন অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিলের যথেষ্ট কারণ। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিট আবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি নন এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হয়নি। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে বৈধ ও যুক্তিসংগত বলে মনে করেন। ফলে আদালত তার রিট আবেদন খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেবিদ্বার উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।তবে আইনগত দিক থেকে এখনও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর জন্য শেষ সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তিনি চাইলে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন অথবা তার পক্ষে রায় প্রদান করেন, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তার প্রার্থিতা আইনগতভাবে বাতিল হিসেবেই গণ্য হবে। এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রার্থিতা পুরোপুরি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছেন আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছেন যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
প্রকৃত সত্য হলো, হাইকোর্ট তার রিট আবেদন খারিজ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সব নজর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকে। আপিল বিভাগে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং এই আসনের নির্বাচনী চিত্র।
রিপোটার্স ২৪/এসসি