আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড দখলের চাপ হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্যারিফ আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ডাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ডেনমার্কের সঙ্গে এই বিরোধ মেটাতে একটি “চুক্তি” আসন্ন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রশ্ন নেই।
ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম আর্কটিক অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি হবে, যা নিরাপত্তা ও খনিজ—দুই ক্ষেত্রেই সবাইকে লাভবান করবে, বলেন তিনি।
তবে গ্রিনল্যান্ডের “সম্পূর্ণ মালিকানা” নিয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থান এখনও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। দ্বীপটির সরকার ও জনগণ আগেই জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। ন্যাটো এক মুখপাত্র বলেন, রাশিয়া ও চীনকে দূরে রাখতে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, কূটনৈতিকভাবে সমাধান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের স্বনির্ধারণ অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেন।
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে মার্কিন শেয়ারবাজারে। ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক একদিনে ১.১৬ শতাংশ বেড়েছে।
ডাভোস সফরে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুই ছিল ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনার পাশাপাশি তিনি ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও ন্যাটো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: রয়টার্স