স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি এ জনসভায় অংশ নেন। ভাষানটেক এলাকা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশা জানার উদ্যোগ নেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার দায় আমি নিতে চাই। সুযোগ পেলে ইনশা আল্লাহ এসব সমস্যার সমাধান করব।
জনসভায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই ভাষানটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক বিআরবি ময়দানে জড়ো হন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে করতালি ও স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
বক্তব্য শুরুর আগে তিনি দর্শকসারিতে বসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে মঞ্চে ডেকে নেন এবং তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি এলাকার সমস্যার কথা শোনেন। বস্তিবাসী নারী লিলি বলেন, আমাদের কিছুই নাই। পুনর্বাসন চাই, ফ্যামিলি কার্ড চাই। শান্তা নামের আরেক নারী বলেন, নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ক্যান্টনমেন্টের পাশে থেকেও ভাষানটেক অবহেলিত ও অনুন্নত—এলাকার উন্নয়ন চান তিনি। এলাকার বাসীন্দা ভ্যানচালক মো. জুয়েল বলেন, আমাদের থাকার জায়গা নেই। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চাই।
স্থানীয়দের কথা শুনে তারেক রহমান বলেন, পুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড ও কর্মসংস্থান—আপনারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর দেশকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের সময় এসেছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, জনগণ যতবার ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।
গত ১৫–১৬ বছরে দেশের বিভিন্ন খাত ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করায় মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে যারা এমপি হয়েছেন, তারা কি জনগণের পাশে ছিলেন?
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবক—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন এবং কৃষকরা সহজে ঋণ, বিমা ও কৃষি উপকরণে সহায়তা পাবেন।
জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহবুব।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি