নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহেল। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার নাক, মুখ ও হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পিবিআই তদন্তে জানা গেছে, সুজন ও হীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে টার্গেট করে। ১৯ জানুয়ারি বিকেলে তারা নানাখীবাজার থেকে আনন্দবাজার যাওয়ার কথা বলে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করেন। পথের এক দোকানে বসে তাকে পানীয়ের সঙ্গে কাশির সিরাপ মিশিয়ে কৌশলে খাওয়ানো হয়। এরপর সন্ধ্যায় মুছারচরের নির্জন এলাকায় নিয়ে সোহেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের একটি গ্যারেজে রাখা হয় এবং পরদিন তা বিক্রি করে দেওয়া হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, দুলাল মিয়া, আব্দুর রহিম ও আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের হেফাজত থেকেই নিহত সোহেলের রিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন ও হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকি তিনজন চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা