চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বায়েজিদে একাধিক স্থানে পৃথকভাবে উদ্ধার হওয়া লাশের টুকরাগুলো মো. আনিস (৩০) নামে এক যুবকের বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আনিসের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে। পুলিশ জানায়, একটি নারীর ডেকে নিয়ে আনিসকে প্রথমে মাথায় মসলা বাটার নোড়া (শিল) দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর আরও দুইজনের সহযোগিতায় তার শরীর কেটে ছয় টুকরো করা হয় এবং এগুলো আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
গতকাল শুক্রবার রাতে বায়েজিদ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আনিস পেশায় কসাই। গ্রেপ্তার নারী দাবি করেছেন, গত বুধবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকার তার বাসায় আনিসকে ডেকে আনা হয়। সেখানে প্রথমে আনিসের মাথায় নোড়া দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার ভাই ও আরেক যুবকের সহায়তায় গলা কেটে আনিসকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার দুই হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর পুরো শরীর ছয়টি টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা পলিথিনে মোড়া দুটি হাত কুকুরের টানাটানি করতে দেখে থানায় খবর দেন। এরপর দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার হয়। পরিচয় নিশ্চিত করতে হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া হলে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর মুঠোফোন নম্বরের কললিস্টের সূত্র ধরে ওই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আনিসের মাথাসহ বাকি অংশও উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নারী বিবাহিত এবং আনিসের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে আনিসকে হত্যা করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, গ্রেপ্তার নারীর দাবি, আনিসের সঙ্গে তার কিছু ছবি রয়েছে। এসব ছবি দিয়ে জিম্মি করে আনিস প্রতারণা করে আসছিল। ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই ও এক স্বজনের সহযোগিতায় আনিসকে খুন করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিহত আনিসের স্বজনরা ওই নারীর দাবি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, আনিস ওই নারীর কাছে দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল। টাকা দাবির জেরে তাকে খুন করা হয়েছে। ওসি জানান, তদন্তের পর এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে বায়েজিদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসি জাহেদুল কবির জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ শনিবার সেই মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি