নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জুমার নামাজের খুতবায় জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে মনে করে খতিবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি পন্থী মুসল্লিরা। তবে খতিব বলেছেন, তিনি জামায়াতের কারো নাম বলেন নি। চোর-ডাকাত, বাটপার,খারাপ ব্যক্তি প্রতিহত করে সৎ ও যোগ্য নেতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে বলেছিলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চরক্লার্ক ইউনিয়নের জনতা বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদের খতিব এইচ এম ফজলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বয়ানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
খতিব এইচ এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কারও পক্ষে বা বিপক্ষে বলিনি। শুধু কোরআনের সুরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াত থেকে তিলাওয়াত করে বলেছিলাম ভোট একটি আমানত। চোর-ডাকাত, বাটপার বা খারাপ লোককে নির্বাচিত না করে সৎ ও যোগ্য এমন নেতাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘ কোরআন হাদিসের আলোকে জুমার নামাজের আগে প্রতিদিন ৩০ মিনিট বয়ান করি। বয়ানের মাঝে মসজিদের সভাপতি ওবায়দুল হক বাধা দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাকে মারতে ঔদ্ধত্য হন। বয়ানে আমি কি বলেছি তা আমি নিজের মোবাইলে ধারণ করি, যদি আমি খারাপ কিছু বলে থাকি তাহলে আমার শাস্তি হোক আর তা না হলে যারা আমার উপর ক্ষেপেছে তাদের বিচার চায় ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি বলেন, ‘খতিবের বয়ানে জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে মনে করে বিএনপিপন্থি কিছু মুসল্লি তাৎক্ষনিক খতিবের বয়ানের প্রতিবাদ করেন। তবে মসজিদের ভিতরে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।’
এ সময় ভিডিও ধারণ করা এক মুসল্লী বলেন, আমি ভিডিও ধারণ করলে তারা বাধা দেন, মসজিদ কারো বাপের সম্পত্তি না, বলে ভিডিও ধারণ করি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়দুল হক মোবাইল ব্যবহার না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবকদের কেউ ফোন ধরেননি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, মুসল্লিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আজ(শনিবার) সকাল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন