রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কৃষি ও শিক্ষাখাতের উন্নয়নে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থীরা এই পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করছেন। পরিকল্পনাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাকে আধুনিক, দক্ষ ও আনন্দময় করে তোলা।
কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ ও কৃষিবিমা
বিএনপির পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো ‘কৃষক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং একই কার্ডে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে। কৃষক কার্ডধারীরা যে সুবিধাগুলো পাবেন, সেগুলো হলো:
ভর্তুকি ও উপকরণ: সার, বীজ ও কীটনাশকের ওপর সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ।
সহজ শর্তে ঋণ: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা।
সরাসরি কেনাবেচা: মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ বন্ধ করতে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া বিএনপি কৃষিবিমা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসল, পশুপালন ও মৎস্য চাষে ক্ষয়ক্ষতি হলে কৃষকদের রক্ষা করতে এই বিমা কার্যকর করা হবে।
পরিকল্পনায় কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রদান এবং মোবাইলে ফসলের রোগের চিকিৎসাসহ সেবা প্রদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য চাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।
শিক্ষাখাতে ‘আনন্দময় শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাখাতের জন্য সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। ‘আনন্দময় শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:
এক শিক্ষক, এক ট্যাব: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও ও অনলাইন কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাসরুমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি।
আনন্দময় শিক্ষা: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে টিম-ওয়ার্ক, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন ও নৈতিক শিক্ষা যোগ করে শিক্ষাকে আনন্দময় করা।
বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা: বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান বা ম্যান্ডারিনের মতো ভাষা মাধ্যমিক পর্যায়ে শেখানো।
সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মকর্মসংস্থান ও বিদেশে চাকরির সুযোগ পায়।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি: ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতারসহ খেলাধুলা এবং সংগীত, নৃত্য ও নাটককে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা।
সুস্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার: পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পর্যায়ক্রমে ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু করা।
সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক: শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
বিএনপির এই পরিকল্পনা-অঙ্গীকারগুলো মূলত দেশের কৃষি ও শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি