স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্রীড়া ও পরিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির প্রার্থীরা এসব পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করছেন। ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন ও নদী-খাল খননসহ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বিএনপির ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা: পেশা থেকে শিল্পে পরিণত করবে খেলাকে
বিএনপির ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো—
১. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি
পেশাদারিত্ব: খেলাধুলাকে বিনোদন নয়, সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা।
ক্রীড়া শিক্ষা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যসূচিতে বাধ্যতামূলক করা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা।
২. অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন
স্পোর্টস ভিলেজ: ৬৪ জেলায় আধুনিক ইনডোর সুবিধাসহ ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ।
বিকেএসপি সম্প্রসারণ: প্রতিটি বিভাগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শাখা স্থাপন।
মাঠ পুনরুদ্ধার: দখল হওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করে সেগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।
৩. তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: ১২-১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও বৃত্তি।
উপজেলা পর্যায়ের একাডেমি: ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, শুটিং, আর্চারি সহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।
ক্রীড়া কর্মকর্তা: প্রতিটি উপজেলায় ‘ক্রীড়া কর্মকর্তা’ নিয়োগ দিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রমকে গতিশীল করা।
৪. আধুনিকায়ন ও বিশেষ ব্যবস্থা
বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ: বিদেশি কোচ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনিক প্রশিক্ষণ।
নারী ক্রীড়া উন্নয়ন: নারী অ্যাথলেটদের জন্য স্বতন্ত্র ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণ।
চাকরি কোটা: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা প্রবর্তন।
৫. ক্রীড়াকে অর্থনীতিতে বড় শিল্পে পরিণত করার লক্ষ্য
বিএনপি খেলাধুলাকে একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা, টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রতিভা তৈরির মাধ্যমে ক্রীড়া খাতকে জিডিপিতে অবদান রাখার পরিকল্পনা করছে।
নদী-খাল খনন ও পরিবেশ রক্ষায় বিএনপির মহাপরিকল্পনা:
বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে চার দফার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষিকাজে বিপ্লব ঘটানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা। লিফলেটে উল্লেখিত মূল দিকগুলো হলো—
১. ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন
দেশের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী নতুন করে খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
২. তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ উন্নয়ন
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পানির সমস্যা সমাধানে ‘তিস্তা ব্যারেজ উন্নয়ন’ এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণসহ বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, এর ফলে মৃতপ্রায় নদী-খাল-বিল পুনরায় সজীব হয়ে উঠবে।
৩. ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘দূষণমুক্ত বাতাস’ এবং সবুজ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
৪. সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
পরিবেশকে দূর্গন্ধমুক্ত রাখতে ও বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও জৈবসার উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি