চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল যেন অভিভাবকহীন এক ছাত্রাবাস। নানামুখী সমস্যার অভিযোগ থাকলেও মিলছে না কোনো সমাধান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবাধে কাটা হচ্ছে হল প্রাঙ্গণের গাছ, যার ফলে জীববৈচিত্র্য যেমন বিপন্ন হচ্ছে, তেমনি গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদের প্রকোপে পড়বে চবির শাহ আমানত হল। লাগামহীন বৃক্ষনিধনের কোনো জবাব নেই। ইতোমধ্যে হলটির বিশের অধিক অর্ধবর্ষীয় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
বেহাল দশা হলটির দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ফলে আমানত হলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হলরুমের লকার ও জানালা ভাঙা হলেও মেরামতের কোনো আশা দেখছেন না শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত পানির ফিল্টার নেই, বেশি ধারণক্ষম ফিল্টারের অভাবে প্রায়ই পানির সমস্যায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। তার ওপর পানিতে আয়রন আরও একটি বড় সমস্যা।
এ ছাড়া মশার উপদ্রব, বাথরুমে পর্যাপ্ত উপকরণ না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন বাথরুমের ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিল সিস্টেম চালু করে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে।
হল প্রশাসনের উদাসীনতার জন্য এর আগেও শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসানকে শিক্ষার্থীরা হল অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
প্রভোস্টের অসংগতি ও সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন,
“দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় কাজের উদ্যোগে অসংগতির কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলাম। তাতেও তাঁর কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তিনি বেশিরভাগ সময়েই হলে থাকেন না, দায়িত্বে অবহেলা করেন। যে কোনো বিষয়ে পরামর্শ করতে গেলেই তিনি বলেন বাজেট নেই, বাজেট এলে দেখা যাবে। আমরা আরও দায়িত্বশীল ও নীতিবান প্রভোস্ট চাই।”
অব্যবস্থাপনার বিষয়ে শাহ আমানত হল সংসদের জিএস আবিদ বলেন,
“হল সংসদ নির্বাচনের পর প্রয়োজনীয় কাজে প্রভোস্টের উদাসীনতার জন্য আমরা আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তীতে ভিসি ও প্রো-ভিসি স্যারের সঙ্গে বসে আলোচনা করি। তখন ১৫টি দাবি জানিয়েছিলাম, যার মধ্যে ক্যান্টিন ও সাইকেল স্ট্যান্ড চালু হয়েছে। বাকি কাজগুলোর জন্য আমরা প্রভোস্টকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি কাজের ক্ষেত্রে উদাসীন। আমরা ভিসির কাছে আরও দায়িত্বশীল একজন চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রভোস্ট তাঁর মেয়াদকাল আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। কাজ হলেও তাঁর উদাসীনতার কারণে খুব ধীরে ধীরে হচ্ছে। কোনো উদ্যোগ নিয়ে কথা বললেই তিনি বাজেট স্বল্পতার অজুহাত দেন।”
এ বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে শাহ আমানত হলের প্রভোস্টকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন