ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ৫ আগস্টের পর ডুমুরিয়ায় যারা চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, তারা এখন আবার সংখ্যালঘুদের কাছে গিয়ে “নিরাপত্তা” দেয়ার নামে ভোট চাইছে। তিনি বলেন, চাঁদা, কার্ড ও মিথ্যার রাজনীতি দিয়ে বাংলার মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, নির্বাচনী জনসভা ও মিছিলের অংশ হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। শলুয়া বাজার, গজেন্দ্রপুর, রামকৃষ্ণপুর, চুকনগর বাজার, আন্দুলিয়া ও কৃষ্ণনগরে তার এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রাস্তার পাশে বাদাম বিক্রি করা, ছোট দোকানদারি করা সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরের সময়কালের চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, “সেই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তাহলে এই চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর কারা করেছে?”
তিনি বলেন, বহু হিন্দু ব্যবসায়ী তাকে ফোন করে জানান তাদের দোকানে এসে কোটি টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে, দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডুমুরিয়া হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা; এখানে প্রায় তিন লাখ হিন্দু বসবাস করেন। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার প্রাথমিক দায়িত্ব।
এ সময় তিনি নিজে কারাবাসে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই এলাকায় আতঙ্কের খবর পান। দুর্গাপূজার সময় তিনি নিজেই নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজরা এখন নিরাপত্তার ঠিকাদার হয়ে হাজির হয়েছে—এ বিষয়টিকে তিনি ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণকে তিনি প্রতারণা বলছেন। কার্ড দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, তবে এগুলো সবই ভুয়া বলে দাবি করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু এলাকায় মহিলাদের কাছে টাকা দেওয়া হচ্ছে, আবার ভুয়া আশ্বাস দিয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জামায়াতের সভায় আসা নেতাকর্মীরা নিজের পয়সায় ভ্যান ভাড়া করে এসেছে; কারণ এই লড়াই ন্যায় ও ইনসাফের।
ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকায় অতীতে চরমপন্থী সন্ত্রাস ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপি থাকাকালে সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য কাজ করেছেন। গত ২০ বছর তার অনুপস্থিতিতে আবার সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আবার এই ডুমুরিয়া চরমপন্থী সন্ত্রাস মুক্ত করব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি ডা. হরিদাস মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি