এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হবে। ১৩১ জনের সরকারি তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ১১ জন এই সম্মান পাচ্ছেন। শনিবার সন্ধ্যায় সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে, রবিবার ঘোষণা করা হয় পদ্মসম্মানের তালিকা।
পদ্মশ্রী ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। শিল্পকলা, শিক্ষা, বাণিজ্য, সাহিত্য, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, সমাজসেবা ও সরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার এই সম্মান প্রদান করেন। এই সম্মাননা সাধারণত ভারতের নাগরিকদেরই প্রদান করা হয়। কিন্তু অনেক অ-ভারতীয়রাও এই পুরস্কার জিতেছেন।
পদ্মশ্রী প্রাপ্ত বাংলাদেশি ব্যক্তিত্বদের তালিকা: রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (২০২৪), শিল্পকলায় অবদানের জন্য তিনি এই সম্মাননা পান। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (২০২০-২১), বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা জনসেবায় অবদান রাখেন। অধ্যাপক এনামুল হক (২০২০-২১), বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক। সান্জীদা খাতুন (২০২০-২১), বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (২০২০-২১), ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে পদ্মশ্রীর মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন। এছাড়া নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়, তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ, তবলাবাদক কুমার বসু, কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়, সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে এই সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন।
শিক্ষা ও সাহিত্যে সম্মান পাচ্ছেন অশোক কুমার হালদার, গম্ভীর সিংহ ইয়নজন, মহেন্দ্রনাথ রায় ও রবিলাল টুডু। চিকিৎসা ক্ষেত্রে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সরোজ মণ্ডল।
গত বছর পদ্মশ্রী পেয়েছেন অরিজিৎ সিংহ, মমতাশঙ্কররা। তবে পদ্ম বিভূষণ ও পদ্মভূষণের তালিকায় এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে কারও নাম নেই।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পদার্পণ করেন। ১৯৮৭ সালে ‘অমর সঙ্গী’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। বলিউডের প্রস্তাব থাকলেও তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে ছেড়ে যেতে চাননি। ২০১২ সালে ‘সাংহাই’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে টলিউড ও বলিউড—উভয় ইন্ডাস্ট্রিতেই সমানভাবে কাজ করছেন।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের ত্রিতীর্থ নাট্যদল গড়ে তোলেন হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশনায় ‘দেবাংশী’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’সহ বহু নাটক সমাদৃত হয়। ১৯৬৯ সালে ত্রিতীর্থ নাট্যদল প্রতিষ্ঠার পর তিনি বালুরঘাটের নাট্য আন্দোলনের এক দিশারী হিসেবে খ্যাতি পান। গত বছর তাঁর মৃত্যু হয়।
৭২ বছর বয়সি তবলা শিল্পী কুমার বসু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত নাম। তিনি পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গে বহু শিল্পীর যোগাযোগ ঘটিয়েছেন।
সন্তুর শিল্পী তরুণ ভট্টাচার্য ২০১৮ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছেন।
কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় বাংলা বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পুরস্কার ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ মসলিন ও জামদানি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
সাঁওতালি সাহিত্য ও শিক্ষার প্রসারে অশোক কুমার হালদার ও রবিলাল টুডুকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
রসায়নের অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায় মৌলিক গবেষণার জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন।
কলকাতার একজন পরিচিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সরোজ মণ্ডল পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আনন্দবাজার