স্টাফ রিপোর্টার: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত ‘থ্রি জিরো’ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ এই তিন লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয়ভাবে কতটা দায়িত্ব পালন করেছে, তা সরকারের মেয়াদ শেষে শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ‘ক্লিন এনার্জি’ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিসরে ‘থ্রি জিরো’ ধারণার প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এই তিন লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয়ভাবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা জানার অধিকার দেশবাসীর রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের মেয়াদ শেষে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।
ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস যথাযথভাবে পালনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। কিন্তু সরকার সে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, শূন্য কার্বন নিঃসরণের ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এগিয়ে নিতে পারত। কেন এই সুযোগ হারানো হলো, সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি ২০২৫) নিয়েও সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনাটি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এবং এতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে একতরফাভাবে নীতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম দুর্বলতা হলো অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করা। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারণ করে।
মানববন্ধনে টিআইবির ক্লিন এনার্জি প্রকল্পের সহসমন্বয়ক আশনা ইসলাম টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুশাসন বিষয়ে একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে কমানো, জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি, ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নীতিমালা প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে প্রকল্প অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
মানববন্ধনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, এমআরডিআইসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি