কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচিত হলে তারা কারও উপর প্রতিশোধ নেবে না। দেশ সকল নাগরিকের, কোনও একক গোষ্ঠীর নয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি যে, আমরা কারও উপর প্রতিশোধ নেব না। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলায় আসামি করা হবে না। জামায়াত অন্যায়ভাবে একটি মানুষকেও মামলার আসামি করেনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত নেতাদের হত্যা করা হয়েছে, বারবার কারারুদ্ধ করা হয়েছে, দলীয় অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে, দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে এবং অবশেষে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতকিছুর পরেও ৫ আগস্ট রাতে আমরা ঘোষণা করেছি যে, আমরা কোন প্রতিশোধ নেব না।
জনসভায় তিনি শহীদ আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ নিজেই এক বিদ্রোহী বিপ্লবের নাম। আধিপত্যের বিরুদ্ধে কলম ধরাই ছিল তার একমাত্র অপরাধ, যার জন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের সাহসী যুবসমাজ আল্লাহ ছাড়া কাউকেই ভয় করে না। গত বছরের জুলাইয়ে যাদের নেতৃত্বে জাতি সংগ্রাম করে মুক্তি অর্জন করেছে, সেই সব শহীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
কুষ্টিয়া প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, পদ্মা ও গড়াই নদীর অববাহিকা কার্যত অব্যবস্থাপনার কারণে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, উজান থেকে পানি এলে তা নদীর মধ্যে থাকে না। দুই তীর উপচে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদীকে আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে, এই নিয়ামত ধীরে ধীরে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতি বছর নদী খননের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু সেই টাকা উধাও হয়ে যায়, আর নদীর বালু কখনোই তোলা হয় না।
তিনি আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিতে জড়িতদের এ পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কষ্টের কারণে আপনারা এসব কাজে জড়ান, তাহলে সেখান থেকে সরে আসুন। আল্লাহ আমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে আমরা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।
জামায়াত আমীর বলেন, জামায়াতে ইসলামি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে নারী ও পুরুষ বিশেষ করে যুবসমাজ সকলের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা নিজেদের শক্তি দেশ গঠন ও অগ্রগতির কাজে লাগাতে পারে।
সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী আবদুল গফুর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসেন এবং কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক সমাবেশে বক্তব্য দেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি