বরগুনা প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দলীয় সদস্য (রুকন) পদও স্থগিত করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু সম্পর্কে শামীম আহসান বেফাঁস ও অশালীন মন্তব্য করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হন। তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি দলীয় নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। এসব বিবেচনায় জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শামীম আহসান। সেখানে তিনি বলেন, ‘ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ছিল, ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল।’ তিনি দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যদি ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে। তখন দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অন্যায় উৎখাত করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী বক্তব্যে শামীম আহসান দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে ডাকসু সম্পর্কে করা মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামীম আহসান বলেন, তিনি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন এবং দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির সেসব সমস্যার সমাধান করেছে।
তবে ‘ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা-বেশ্যাখানা ছিল’ এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি