আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে ব্রিটেনকে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে বেইজিং সফরে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘বাস্তব অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে স্টারমার বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো, শুল্ক কমানো এবং নতুন বিনিয়োগ চুক্তির ওপর জোর দেন। বৈঠকে দুই নেতা কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওটা তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তবে তিনি মন্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন।
স্টারমারের এই চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
চীনের রাজধানীতে আয়োজিত যুক্তরাজ্য–চীন ব্যবসা ফোরামে স্টারমার বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার “উষ্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা ও ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক হ্রাসকে তিনি সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাংহাই সফরের আগে স্টারমার চীনা শিল্পগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরির প্রধান নির্বাহী ইন টংইউয়ে যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্নে স্টারমার বলেন, ব্রিটেনকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রিটেনের উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে ব্রিটেনের ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে চীন কূটনীতির নতুন ধাপে স্টারমারের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে লন্ডনের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি