রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তাঁর অভিযোগ, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নতুন রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, যা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা, নির্বাচন এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।
কেন তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেননি?এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার জোট কোনো সুস্পষ্ট বোঝাপড়া ছাড়াই গঠিত হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।
জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে। তাঁর দাবি, এই পারস্পরিক অস্তিত্বের বাস্তবতাই নির্বাচনে না দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এনসিপি যখন পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যায়, তখন সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। এ ধরনের জোট আদর্শিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং নতুন প্রজন্মের রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে জামায়াতের অবস্থানের কোনো বাস্তব মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ক্ষমতায় বিএনপি বা জামায়াত যেই আসুক না কেন, সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত সারাতে ব্যর্থ হলে কোনো সরকারই টেকসই হবে না। তাঁর মতে, কেবল কাগজে–কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা না হলে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ হবে না।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অতীতের ভূমিকার জন্য গণমাধ্যমকে আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আইনের শাসনের পরিবর্তে গণপিটুনি ও মব ভায়োলেন্সের সংস্কৃতি চলতেই থাকবে।
মাহফুজ আলমের মতে, প্রকৃত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি